মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় সংযম ও সংলাপের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী সহিংসতা ও ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ কঠিন সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি।
রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূল্যবোধের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সমর্থন দিচ্ছে তাদের উচিত এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ভেবে দেখা। অস্তিত্বগত এই হুমকির জেরে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে তা অনিশ্চিত এবং ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইরানে অবস্থানরত মালয়েশীয় নাগরিকদের নিরাপত্তাই সরকারের বর্তমান সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। নাগরিকদের সুরক্ষায় সেখানকার দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও সম্পদ দেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আঞ্চলিক আকাশপথের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা মালয়েশিয়ার বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলে জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং অর্থবহ সংলাপে ফিরে আসার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কূটনীতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব, শক্তি প্রয়োগে নয়।

