যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন, ছয় বছরে ৯৬৪ ঘটনা চিহ্নিত

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সহমত পোষণকারীদের ওপর সংঘবদ্ধ ও পুঞ্জীভূত দমন-পীড়নের চিত্র ধরা পড়েছে। গত ছয় বছরে দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থীদের ওপর কণ্ঠরোধ, বিধিনিষেধ আরোপসহ নানা ধরনের নিপীড়নের অন্তত ৯৬৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ইউরোপীয় লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার (ইএলএসসি) এবং গবেষণা সংস্থা ফরেনসিক আর্কিটেকচারের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত ‘ব্রিটেন ইনডেক্স অব রিপ্রেশন’ বা দমন-পীড়নের ব্রিটিশ সূচকের প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত এই তথ্য ব্রিটিশ সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিল্পকলার বিভিন্ন খাতে ফিলিস্তিনবিরোধী তৎপরতার প্রথম বিস্তারিত মানচিত্র।
গবেষকদের মতে, এই সংখ্যা আসলে হিমশৈলের চূড়া মাত্র। হয়রানির ভয়ে অনেকে এমন ঘটনার অভিযোগ পর্যন্ত করেননি। ইএলএসসির সিনিয়র মনিটরিং অফিসার তারা মারিওয়ানি জানান, এই তথ্য প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনবিরোধী দমন-পীড়ন একটি সুশৃঙ্খল, বহুমুখী এবং পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়া। দেশের বিভিন্ন অংশে একই ধরনের কুশীলব, অভিযোগ এবং কৌশল বারবার দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই ডেটাবেজ ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের জন্য এক বড় অর্জন, যা দমন-পীড়নের একটি বিস্তৃত কাঠামোর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদনে দমন-পীড়নের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে থাকে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ও কলঙ্কলেপন, এরপর আমলাতান্ত্রিক কঠোরতা এবং সবশেষে চাকরিচ্যুতি বা গ্রেপ্তারের মতো সরাসরি পদক্ষেপ। এই ব্যবস্থাটি রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক এবং বেসরকারি পক্ষের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যাতে কোনো একক সংস্থার ওপর দায় এড়িয়ে যাওয়া সহজ হয়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বয়ান এবং আইনি গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকাও লক্ষ্য করা গেছে, যা মিলে ভিন্নমত স্তব্ধ করার কাজ করে চলেছে।

