বিএনপির ঐতিহাসিক জয়, দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত
প্রায় দেড় যুগ পর দেশে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শনিবার নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো। এই ফলাফল কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই পরিবর্তন আনেনি, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন করে সাজানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফলাফল ঘোষণার পর পরই বিশ্বনেতারা বিএনপির অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং পরে ফোনে কথা বলেন। মোদি জানান, একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ ২০২৪ সালের ছাত্র অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতির কারণে সৃষ্ট বৈরিতা কাটিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী দিল্লি। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা সফরে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই জয় দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে একটি দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন আনবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, এটি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন মোড়। তিনি বলেন, চীন ও ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বাংলাদেশ নিজের স্বার্থে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নীতি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে। সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে অঞ্চলটির ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

