অজিত পাওয়ার নিহত: ভারতে নিষিদ্ধ ছিল ওই বিমান মডেল
বুধবার সকালে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার। বারামতিতে এক জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা বডিগার্ড বিদীপ যাদব, কেবিন ক্রু পিঙ্কি মালি, পাইলট সুমিত কাপুর এবং সম্ভাবি পাঠকসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যা ভারতীয় রাজনীতিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
জানা গেছে, মুম্বাই থেকে ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে বোম্বার্ডিয়ারের তৈরি এই অত্যাধুনিক লিয়ারজেট ৪৫ এক্সআর মডেলের বিমানটি ভাড়া করা হয়েছিল। ওজনে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কেজির এই ডাবল ইঞ্জিনের বিমানটি ঘণ্টায় প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার বেগে ৫১ হাজার ফুট পর্যন্ত ওড়তে সক্ষম। সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে সমৃদ্ধ হলেও এই মডেলের বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে আগেও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে।
২০০৩ সালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং মাঝ আকাশে উইন্ডশিল্ডে ফাটল ধরার ঘটনার কারণে ভারতে এই মডেলের বিমান ওড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে এই মডেলের বিমান ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ বার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেও মুম্বাই বিমানবন্দরে ভারী বৃষ্টিতে এই একই বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে দুই ভাগে ভেঙে গিয়েছিল, যদিও তখন যাত্রীরা আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যান।
গতকাল সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই থেকে উড্ডয়নের পর কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। ৮টা ৪৫ মিনিটে রাডার থেকে বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার পর মে ডে কল আসে এবং পরে এটি বারামতিতে দুর্ঘটনায় পড়ে। একজন গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি যাত্রীর ফ্লাইটের আগে বিমানের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে এখন গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

