নির্বাচনি প্রচারে ফের বিষাক্ত রাজনীতি, হতাশ বিশ্লেষকরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দলীয় নেতাদের বক্তব্যে অসহিষ্ণুতা ও পরস্পরের প্রতি বিষোদগার প্রকট আকার ধারণ করেছে। কেরানীগঞ্জে গোলাগুলির ঘটনা এবং রাজধানীতে প্রার্থীদের ওপর ডিম ও নোংরা পানি ছোড়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে নির্বাচনি আমেজ এখন বৈরিতাময়। ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও বাড়ছে ব্যাপকহারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, গণতন্ত্র ও জুলাইয়ের সনদ এখন অনেকের স্মৃতি থেকে মুছে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে ইস্যুভিত্তিক ক্যাম্পেইন না হয়ে বরং উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসাথে, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেছেন, দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে পুরনো ধারায় ফিরে যাওয়ায় জনগণ হতাশ হবে। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মতো বাস্তব ইস্যু এড়িয়ে ‘নোংরা কাদা ছোড়াছুড়ি’ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী জনসভাগুলোতেও এই আক্রমণাত্মক ধারা স্পষ্ট। শনিবার বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে এক জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রতিপক্ষকে নিশানা করে কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার বদলে আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য অবশ্যই হতাশাজনক।

