আদানি চুক্তি নিয়ে জরুরি বৈঠক, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের সিদ্ধান্ত
ক্ষমতায় আসার মাত্র তৃতীয় দিনেই বিতর্কিত আদানি চুক্তি পুনর্মূল্যায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চুক্তিটি বাতিলের বিষয়ে কিছু মতামত উঠে আসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উপস্থিতিতে বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনই চুক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে কিছু একটা হতে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেছেন, এই চুক্তিতে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং এটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়ায় এবং পূর্ববর্তী সরকার রাষ্ট্রের সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়েছে বলে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় কমিটি আদানি চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশে স্থাপনের কথা থাকলেও তা ভারতের ঝাড়খণ্ডে স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চুক্তির সময় সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউসের বিদেশি অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে দুদক এই দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে এবং জড়িত ১১ জন সরকারি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

