ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অসীম ক্ষমতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া জেনে নিন

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০১ মার্চ ২০২৬ ১০:৪৮ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অসীম ক্ষমতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া জেনে নিন

ইরানের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদ হলো সর্বোচ্চ নেতা বা সুপ্রিম লিডার। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এই পদধারক দেশের সামরিক, আইনি ও রাজনৈতিক সব ক্ষমতার চূড়ান্ত অধিকারী। আয়াতুল্লাহ খোমেনির পর আলী খামেনি দীর্ঘ সাড়ে ৩৬ বছর এই পদে ছিলেন। রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে তিনি যুদ্ধ ও শান্তির ঘোষণা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার। ইরানের আর্মি, রেভলিউশনারি গার্ড এবং কুদস ফোর্সের প্রধানদের তিনি নিয়োগ দেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রধান, নির্বাচন কমিশন সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সব নীতিমালা তার ওপর নির্ভরশীল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাও অনেকাংশে সর্বোচ্চ নেতার তত্ত্বাবধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ধর্মীয় ও সাংবিধানিকভাবে এই পদের ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাকে ইসলামী বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেন ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ। জনগণ প্রতি আট বছর পর পর এই পরিষদের সদস্যদের ভোট দেন। তবে প্রার্থীদের উপযুক্ততা যাচাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল, যার সদস্যরা অনেকাংশে সর্বোচ্চ নেতার প্রভাবেই মনোনীত হন। নতুন নেতা নির্বাচিত হতে হলে পরিষদের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে একই সংখ্যক ভোট পেতে হয়। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার জন্য প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্যকে নিয়ে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...