গাজীপুরে ফোনে ডেকে নিয়ে সাবেক স্ত্রীকে খুন, গণহাতে আটক স্বামী
গাজীপুরের পূবাইলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকার মাওরারটেকে ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনের ধারে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে গণহাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
নিহত আসমা আক্তার নওগাঁর মান্দা থানার মৌনম এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরের খাইলকৈরে ভাড়া করা বাসায় থেকে তিনি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। পুলিশ ও নিহতের পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার দুপুরে রফিকুল ফোনে আসমাকে হায়দরাবাদ রেললাইন এলাকায় দেখা করতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রফিকুল। খবর পেয়ে স্থানীয়রা রক্তাক্ত আসমাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, প্রায় চার বছর আগে রফিকুলের সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। রফিকুল প্রবাসে থেকে সংসারে টাকা পাঠাতেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর বিদেশে উপার্জিত অর্থ নিয়ে দম্পতির মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রফিকুলের দাবি, তিনি স্ত্রীকে প্রায় ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন, কিন্তু আসমা তার সঙ্গে সংসার করতে চাইছিলেন না এবং অর্থও ফেরত দিচ্ছিলেন না। এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি পুলিশকে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি রেলওয়ের সীমানার মধ্যে হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আটককৃত রফিকুলকে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে। টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক স্বামীর হাতে আসমা খুন হয়েছেন। তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ বের করা হচ্ছে এবং আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

