খামেনি নিহত: অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ আইন কর্মকর্তারা
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর, দেশটিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি নিহত হন। এই হামলায় তার মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। এমতাবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগ প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
হামলার তীব্রতা এখনও কমেনি। তেহরানে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের অন্তত ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সামরিক কমান্ড সেন্টার। ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের আওতাভুক্ত টার্গেটগুলোতে সফল আঘাত হেনেছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্টস নামক পরিষদকে দ্রুত বৈঠকে বসতে হবে। তবে দেশজুড়ে চলা এই মারাত্মক হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিষদের সদস্যদের বৈঠক করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আলী খামেনি ছিলেন ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা, যিনি আগের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনই এই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

