যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে নয়, ইউক্রেনকেই আপস করতে বাধ্য করছে: জেলেনস্কি
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দাঁড়িয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর ওপর চাপ না বাড়িয়ে উল্টো তার দেশকেই আপস করতে বাধ্য করছে। আগামী সপ্তাহে জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এর বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একমাত্র ভৌগোলিক আপস নয়, বরং ইউক্রেনের জন্য সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, কিয়েভ পশ্চিমাদের কাছ থেকে ন্যূনতম ২০ বছরের নিরাপত্তা চুক্তি চাইলেও ওয়াশিংটন ১৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েনের ঘোর বিরোধী এবং দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। জেলেনস্কি এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অনুপস্থিতিকে একটি বড় ভুল হিসেবে দেখছেন এবং পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, মস্কো জেনেভা বৈঠকের প্রতিনিধি দল পরিবর্তনের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করছে।
যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে দেশব্যাপী গণভোট এবং একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ মিশন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে চেকোস্লোভাকিয়ার সাথে সংঘটিত মিউনিখ চুক্তির উদাহরণ টেনে সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনকে বিভক্ত করে শান্তি আনার চেষ্টা করা হলে তা কেবল বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই হবে না। এছাড়া বন্দি বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাশিয়ার হাতে প্রায় ৭ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা থাকলেও ইউক্রেনের কাছে ৪ হাজার রুশ সেনা রয়েছে।
ছবি: জুগন্তর

