তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা মোদির, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠনে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি। মোদির এই পদক্ষেপকে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে অবনত হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চরমে ওঠে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন এবং বাণিজ্য বাধার পাশাপাশি ভিসা ইস্যুতে স্থবিরতার কারণে সম্পর্কটি আরও জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাস ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগতভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে ভারত।
লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল মনে করেন, ভারতের জন্য এখন বিএনপিই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। তবে দুই দেশের অতীত অবিশ্বাস কাটিয়ে ওঠা বড় চ্যালেঞ্জ। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার আমলেও দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত শীতল হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া বর্তমান ঢাকার জন্য বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক ইতিবাচক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—তারেক রহমানের এই স্লোগান স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির বার্তা দিলেও স্থিতিশীল সম্পর্কের প্রতি তার আগ্রহ স্পষ্ট। সংযম ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন দুই প্রতিবেশীর মূল চ্যালেঞ্জ।

