জেনেভা বৈঠকের আগে জেলেনস্কির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রই চাপ দিচ্ছে ইউক্রেনকে
ইউরোপের বৃহত্তম এই সংঘাত থামাতে আগামী সপ্তাহে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তবে এরই মধ্যে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, শান্তি আলোচনার নামে যুক্তরাষ্ট্র আসলে রাশিয়ার ওপর নয়, বরং কিইভকেই বারবার আপস করতে বাধ্য করছে। ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করলেও এর ধরন নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল একতরফা ছাড় দেওয়া যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের রাশিয়ার দাবির বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে মস্কোর যেকোনো আগ্রাসন ঠেকাতে তার দেশ পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ন্যূনতম ২০ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি চায়। যদিও ওয়াশিংটন ১৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে এবং পুতিন ইউক্রেনে বিদেশি সেনা মোতায়েনের বিরোধী, তবুও কোনো আপস ছাড়াই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান তিনি। এছাড়াও শান্তি আলোচনা থেকে ইউরোপকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে একটি বড় ভুল বলে উল্লেখ করেছেন কিইভের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, ইউরোপকে আলোচনার টেবিলে রাখা গেলে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ হিসেবে অভিহিত করে জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কো জেনেভা বৈঠকের প্রতিনিধি দলে আকস্মিক পরিবর্তন এনে আলোচনার গতি ধীর করার অপচেষ্টা করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে চেকোস্লোভাকিয়াকে বুঝেই মিউনিখ চুক্তি করা হয়েছিল, ১৯৩৮ সালের সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়াতে যেকোনো মূল্যে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। যেকোনো চুক্তির আগে দেশব্যাপী গণভোট, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ মিশন প্রয়োজন। এছাড়াই যুদ্ধবন্দি বিনিময় অগ্রাধিকার পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি, যেখানে বর্তমানে রাশিয়ার কাছে প্রায় ৭ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা এবং ইউক্রেনের কাছে ৪ হাজার রুশ সেনা আটক রয়েছে।

