মুদ্রাস্ফীতি কমার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ঊর্ধ্বগতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার কমে আসার তথ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে যে বড় উত্থান হয়েছে তা নজর কেড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে—এমন আশাবাদের প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের দাম দুই শতাংশেরও বেশি বেজে গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় তিন শতাংশ দরপতনের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাজারে এই ইতিবাচক গতিপথ লক্ষ্য করা যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জানুয়ারি মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রত্যাশার চেয়ে কম আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ কমে এসেছে। স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং জানিয়েছেন, শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, মূল্যস্ফীতির নরম তথ্য তা প্রশমিত করেছে। এর ফলে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এক ধরনের ‘রিলিফ র্যালি’ বা স্বস্তির ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এখন ধারণা করা হচ্ছে চলতি বছর মোট ৬৩ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমতে পারে, যার প্রথম ধাপটি আগামী জুলাইতে দেখা যেতে পারে।
নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২২ ডলার ৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একইসাথে এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্সও ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৪৬ ডলার ৩০ সেন্টে নিষ্পত্তি হয়েছে। অপরদিকে রুপার দামও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৭ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছেছে। এছাড়াও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ৮ এবং ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মূল্যসূচক ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের ০ দশমিক ৩ শতাংশের নিচে। সাপ্তাহিক হিসাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণত সুদহার কমে গেলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে, যার প্রতিফলন এই দর বৃদ্ধিতে স্পষ্ট।

