রাজপথের শক্তি ভোটে ধরল না: এনসিপির হতাশাজনক বিপর্যয়
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ব্যর্থতার মুখে পড়েছে যুবনির্ভর রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, তিনশ’ আসনের সংসদে মাত্র ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে তারা। এর মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনের জয়রথ নির্বাচনে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ার বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে প্রবীণ দল বিএনপি বিপুল সংখ্যক আসনে জয় ছিনিয়ে এনে তাদের শক্তি আবারও প্রমাণ করেছে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের সুবাদে রাজনীতিতে আসা এনসিপি নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠন করে বিতর্কের মুখে পড়ে। শুরুতে প্রায় সব আসনে লড়ার পরিকল্পনা থাকলেও চুড়ান্ত পর্যায়ে জোটের শর্তে তারা মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলটির যুক্তি, ঢাকায় একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুর পর বড় শক্তির সমর্থন প্রয়োজন হওয়ায় তারা এই জোটে যায়। তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্বাচনের আগে যথেষ্ট সময় না থাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে পারেনি তারা।
জামায়াতের সাথে জোট করার সিদ্ধান্ত নির্বাচনে ভরাডুবির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এনসিপির এই জোট রাজনীতির কারণে ভেঙে পড়েছে। তরুণ ভোটারদের কাছে এটি বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফলে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

