মাত্র ৬ আসন: রাজপথের শক্তি ভোটে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলো এনসিপি
গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফল রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা যুব নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। অপরদিকে, প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে, যা রাজপথের জনপ্রিয়তা ও ভোটের বাস্তবতার মধ্যে বিরাট ব্যবধান তুলে ধরেছে।
এনসিপির এই হতাশাজনক ফলাফলের পেছনে বিশ্লেষকরা জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোট গঠন এবং সংগঠনগত দুর্বলতাকে দায়ী করছেন। যদিও শুরুতে সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, ঢাকায় আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় বড় রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন প্রয়োজনে তারা জামায়াতের সাথে হাত মেলায় এবং মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত সময় না থাকা এবং শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন না থাকা তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
এই ফলাফলে এনসিপির অনেক সমর্থক বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান মনে করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তটি অনেক তরুণ ভোটারের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতোই মনে হয়েছে। ফলে আন্দোলনের জয় ভোটের বাক্সে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হল এই নতুন রাজনৈতিক শক্তি।

