জামায়াতের সঙ্গে জোটে বিপর্যয়: কেন ব্যর্থ হলো যুবনির্ভর এনসিপি?
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধাক্কা খেয়েছে যুব নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জেন-জি অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ৬টি আসনে জয়ী হতে পেরেছে তারা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসার পথে রয়েছে, যা ২০০৬ সালের পর তাদের প্রথম সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এনসিপির এমন ফলাফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে যে, কেন রাজপথের জনপ্রিয়তা ভোটের বাক্সে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হলো তারা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, স্বল্প সময় এবং কৌশলগত ভুলই এনসিপির এই পরাজয়ের মূল কারণ। দলটি শুরুতে সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের কারণে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এনসিপি নেতারা জানান, ঢাকায় আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হওয়ার পর বড় রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন প্রয়োজনের কারণেই তারা এই জোটে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তবে সময়ের অভাবে তারা নির্বাচনের আগে শক্তিশালী ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এনসিপির এই জোট রাজনীতি অনেক তরুণ ভোটারের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার কারণে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, এনসিপি তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই জোট অনেকের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতোই মনে হয়েছে। ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আন্দোলনের আবেগ ভোটের মাঠে সফল করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী সাংগঠনিক শক্তির বিকল্প নেই।

