বিশ্ব রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র: যেসব দেশে ক্ষমতার চাবি একই পরিবারের
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক দেশ রয়েছে, যেখানে গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ণ থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব একই পরিবারের মধ্যে বংশানুক্রমে বা পারিবারিক আধিপত্যের মাধ্যমে বিনিময় হয়েছে। এশিয়া থেকে ইউরোপ বা আমেরিকা—সব মহাদেশেই এই ‘রাজনৈতিক রাজবংশ’-এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যণীয়। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতে ‘নেহরু-গান্ধী’ পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন; জওহরলাল নেহরুর পর তার কন্যা ইন্দিরা গান্ধী এবং পরবর্তীতে নাতি রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিবেশী পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং তার কন্যা বেনজির ভুট্টো ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে ছিলেন। শ্রীলঙ্কায় বন্দরনায়েকে পরিবারের স্বামী-স্ত্রী-কন্যা এবং রাজাপাকসে পরিবারের দুই ভাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও শেখ ও জিয়া পরিবারের একাধিক সদস্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সর্বশেষ খবর অনুযায়ী জিয়া পরিবারের তারেক রহমান রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছেন।
পশ্চিমাবিশ্বেও এমন উদাহরণ বিরল নয়। উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় পিয়েরে ট্রুডো এবং তার পুত্র জাস্টিন ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ইউরোপের গ্রিসে পাপানদ্রিউ পরিবারের তিন প্রজন্মের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, আধুনিক গণতন্ত্রেও পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং রাজনৈতিক পরিচিতি অনেক সময় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

