গাজা ইস্যুতে আফ্রিকাকে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আয়োজিত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বর্জন করতে আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাফান্ডা ম্হাকা। গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতিবাদে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ম্হাকার মতে, ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরোধিতায় মহাদেশটির দেশগুলোর উচিত খেলাধুলার এই বৃহৎ আসর এড়িয়ে চলা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘাত চলার ফলে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষ আহত হয়েছেন। গাজার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তাকে দায়ী করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ আয়োজন উদযাপনের মতো নয় বলেই মনে করেন এই বিশ্লেষক। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ২৫ জন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে আয়োজকের দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের রাজনীতিবিদরাও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে টুর্নামেন্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুরস্কার দেওয়াকে কেন্দ্র করেও ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে ১৯৭৬ সালের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন টাফান্ডা ম্হাকা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ২২টি আফ্রিকান দেশ মন্ট্রিল অলিম্পিক বর্জন করেছিল। তেমনিভাবে, মরক্কো, সেনেগাল, ঘানা বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী ফুটবল জাতিরা যদি একত্রিত হয়ে এই বিশ্বকাপ বর্জন করে, তবে তা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বিশ্বব্যাপী সংহতির একটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠবে। এটি হয়তো যুদ্ধ থামাতে পারবে না, তবে ফিলিস্তিনি শিশুদের কবরের ওপর খেলার উৎসব মেনে নেওয়া হবে না—এই বার্তাটি অবশ্যই পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

