বিশ্ব জুড়ে প্রশংসা, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উৎসবে মুগ্ধ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোটি কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই নির্বাচনকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার বদল ঘটার ধারাবাহিকতায় নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রধান ডেভিড ড্রেয়ার ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়াও পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক নিঘাত সিদ্দিকী এই নির্বাচন পরিচালনায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, নারী, তরুণ ও প্রবীণদের দীর্ঘ লাইন প্রমাণ করে যে মানুষ পরিবর্তন চায়। কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্মকর্তাদের আন্তরিকতাও তাদের নজর কেড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবার ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক ভোট পর্যবেক্ষণ করেছেন। ১০ লাখেরও বেশি সদস্যের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পর্যন্ত রেকর্ড করা গড় ভোটার উপস্থিতির হার ৪৭.৯ শতাংশ। ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল এবার। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মূলত বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে।

