গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের ভোট, নজর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্ধারণে ‘জুলাই সনদ’ বা ‘ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫’-এর ওপরও গণভোট চলছে। গণতন্ত্রে ফেরার এই মহড়ায় প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এই নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বিবিসি, আল জাজিরা ও রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো লাইভ নিউজ সম্প্রচার করে বাংলাদেশের এই ভোট উৎসবকে তুলে ধরছে। সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে, ২০০৯ সালের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দুই প্রধান দলের বাইরে অন্য শক্তিগুলো মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে। এবারই প্রথম দশকের পর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া—কেউই নির্বাচনী মাঠে নেই। মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে আন্দোলনে সোচ্চার তরুণদের দল ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বেকারত্ব এই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। বিশেষ করে রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি যেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পায়, তা নিয়ে আশাবাদী বিনিয়োগকারীরা। পোশাক খাতসহ অন্যান্য শিল্পে স্থিতিশীলতা আনতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উৎসাহ এই নির্বাচনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করত যাচ্ছে। ‘জুলাই সনদ’-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের পথ যেমন প্রশস্ত হবে, তেমনি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীল সরকার গঠন অর্থনীতির চাকা আবার সচল করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

