প্রক্রিয়াজাত খাবার ছেড়ে ডাল-ভাতেই ডায়াবেটিস মুক্তির সম্ভাবনা
নেপালে পশ্চিমা জাঙ্ক ফুড ও প্যাকেটজাত খাবারের প্রসারের কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়লেও, সমাধান লুকিয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী ‘ডাল-ভাতের’ মধ্যে। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, ক্যালরি হিসাব করে পরিমিত পরিমাণে এই খাবার গ্রহণ করলে অনেক রোগী ওষুধ ছাড়াই সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। কাঠমান্ডুর ৭০ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত এক পাইলট স্টাডিতে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ৪৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ডায়াবেটিসমুক্ত হয়েছেন।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ও নেপালের ধুলিখেল হাসপাতালের যৌথ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, দক্ষিণ এশীয়দের জেনেটিক গঠনের কারণে ওজন কমানো তাদের জন্য সহজ হয় এবং অল্প ওজন কমালেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে। গবেষকরা আট সপ্তাহের জন্য দৈনিক ৮৫০ ক্যালরির খাবার তালিকা প্রণয়ন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সকালে দই ও ফল এবং প্রধান খাবারে ডাল-ভাত। অধ্যাপক মাইক লিন জানান, গড়ে মাত্র ৪-৫ কেজি ওজন কমালেই এই অঞ্চলের মানুষের ডায়াবেটিস রিমিশনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা ইউরোপের তুলনায় অনেক কম। তবে বাজারে থাকা প্রক্রিয়াজাত খাবার এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে, যেখানে ৮৭ শতাংশ খাবারেই চিনি ও চর্বির মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে।
বর্তমানে শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকার ১২০ জন রোগী নিয়ে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সেখানেও ইতিবাচক ফল মিলছে। আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে পারেন না, ফলে কিডনি রোগ থেকে শুরু করে অন্ধত্ব বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। হাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ১.৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদানের মাধ্যমে চলমান এই গবেষণা প্রমাণ করছে যে, সাধারণ ও সস্তা দেশীয় খাবারই হতে পারে এই মহামারির অন্যতম কার্যকর প্রতিকার।

