ব্রেক্সিট থেকে দক্ষিণ সুদান: বিশ্বের গণভোটের ইতিহাস ও বাংলাদেশের নতুন পথ
গণভোট গণতন্ত্রের এক অনন্য ধারা, যেখানে রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংসদ বা সরকারের পরিবর্তে সাধারণ নাগরিকরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অংশ নেয়। বাংলাদেশে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটছে, যেখানে চারটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের ওপর হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে জনমত যাচাই করা হবে। পৃথিবীর বেশিরভাগ গণভোট যেখানে একটি মাত্র প্রশ্নের ওপর কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়, সেখানে বাংলাদেশের এই বহুমুখী উদ্যোগ সত্যিই ব্যতিক্রমী।
২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্যপদ নিয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ভোটারদের কাছে একমাত্র প্রশ্ন ছিল—দেশটি কি ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে নাকি বেরিয়ে যাবে? ফলাফলে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ইইউ থেকে বিদায় নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন, অন্যদিকে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করে, যার প্রভাব ইউরোপীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর গভীরভাবে পড়ে।
স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে সুদানের ২০১১ সালের গণভোট এক উজ্জ্বল অধ্যায়। দক্ষিণ সুদান কি সুদান থেকে পৃথক হবে—এই একটি প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত গণভোটে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন। এর ফলে ওই বছরের ৯ জুলাই দক্ষিণ সুদান সুদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্বের নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বের এসব প্রসিদ্ধ গণভোটের পাশে বাংলাদেশের চার প্রশ্নের মাধ্যমে ৮৪ সংস্কারের বিষয়ে জনমত যাচাই অভিনব এবং বহুমাত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

