ইরান উত্তেজনার মধ্যে কাতারে মোবাইল মিসাইল বসাল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সাথে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত সময়ে স্থির লঞ্চার থেকে সরিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে এম৯৮৩ হেভি এক্সপ্যান্ডেড মোবিলিটি ট্রাকে (এইচইএমটিটি) স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এগুলো সরিয়ে নেওয়া বা নতুন অবস্থানে মোতায়েন করা সম্ভব হবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাক-ভিত্তিক এই মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় অবস্থানেই নমনীয়তা দেবে। ‘কনটেস্টেড গ্রাউন্ডের’ ফরেনসিক ইমেজারি বিশ্লেষক উইলিয়াম গুডহাইন্ড জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে ধারণ করা ছবিতে ওই ঘাঁটিতে বিমান ও সামরিক সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি মনে করেন, স্থির অবস্থানের পরিবর্তে পরিবহনযোগ্য লঞ্চারে মিসাইল থাকার অর্থ হলো সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নেওয়া।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের হস্তক্ষেপ নিয়ে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে কোনো হামলা হলে তারা এই অঞ্চলে অবস্থিত যেকোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত। ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি থাকায় সম্ভাব্য সংঘাতের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

