গাজায় নিষিদ্ধ বোমার আগুনে বাষ্পে পরিণত হলেন ২ হাজার ৮৪২ জন
গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমা নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিস্ফোরিত হলে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। এই ভয়াবহ অস্ত্রের আঘাতে মানুষের দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এবং কোনো চিহ্ন থাকছে না। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ফরেনসিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন মানুষের মরদেহ সম্পূর্ণরূপে বাষ্পীভূত হয়ে গেছে। দেয়ালে লাগা রক্তের দাগ বা মাথার ত্বকের টুকরো ছাড়া এদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
চরম এই ধ্বংসযজ্ঞের স্বাক্ষী হয়েছেন গাজা সিটির বাসিন্দা ইয়াসমিন মাহানি। গত ১০ আগস্ট ভোরে আল-তাবিন স্কুলের ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে নিজের ছেলে সাদকে খুঁজছিলেন তিনি। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াসমিন বর্ণনা করেন, ধ্বংসস্তূপের মসজিদে ঢুকে তিনি রক্ত আর মাংসের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন। একের পর এক হাসপাতাল ও মর্গে খোঁজার পরও তার ছেলের কোনো সন্ধান পাননি। দাফন করার মতো একটি অঙ্গও না পাওয়ার বেদনাবিধুর অভিজ্ঞতার কথা জানান এই মা।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, নিখোঁজদের এই সংখ্যা কোনো অনুমান নয় বরং ‘বর্জন পদ্ধতি’র মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে। হামলার সময় একটি বাড়িতে কতজন ছিলেন এবং পরবর্তীতে কয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তার তুলনা করে এই হিসাব করা হয়। তিনি বলেন, যদি কোনো পরিবার জানায় যে তাদের পাঁচজন সদস্য ছিলেন কিন্তু তিনটি মরদেহ মিলল, তবে বাকি দুইজনকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই অবস্থায় শুধু দেয়ালে রক্তের ছিটা বা ত্বকের ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।

