বিজ্ঞাপন

নিষিদ্ধ তাপীয় অস্ত্রে বাষ্পে পরিণত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬ পিএম
নিষিদ্ধ তাপীয় অস্ত্রে বাষ্পে পরিণত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন যুদ্ধাপরাধের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক তদন্তে জানা গেছে, সেখানে এমন সব ধ্বংসাত্মক বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে যা তাৎক্ষণিকভাবে তিন হাজার ডিগ্রির বেশি তাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। এর ফলে চোখের পলকেই বাষ্পে পরিণত হয়ে মিলে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের দেহ। গত ১০ আগস্ট গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে বোমা হামলার পর থেকেই এই ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি এভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন।

ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে ছেলে সাদের খোঁজে হাঁটছিলেন মা ইয়াসমিন মাহানি। স্বামীকে চিৎকার করতে দেখলেও সাদের কোনো চিহ্ন পাননি তিনি। ইয়াসমিন বলেন, ‘মসজিদের ভেতরে গিয়ে আমি নিজেকে রক্ত ও মাংসের ওপর পা রাখতে দেখলাম।’ দিনের পর দিন হাসপাতাল ও মর্গে খুঁজেও সাদের লাশের একটি টুকরো পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত এই আগ্রাসনে ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, তারা ধ্বংস হওয়া বাড়িতে থাকা মানুষের সংখ্যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের হিসাব মিলিয়ে দেখছেন। রক্ত বা মাংসের ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া আর কিছু না পাওয়া গেলে তাদের ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এর জন্য ইসরায়েলের ব্যবহৃত থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমাকে দায়ী করেছেন। রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ জানান, এই অস্ত্রে বিস্ফোরণের তাপমাত্রা বাড়াতে অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়, যা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সৃষ্টি করতে পারে। এটি মানুষকে কেবল হত্যা করে না, সম্পূর্ণ দেহ ছাইয়ে পরিণত করে দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ এই অস্ত্র ব্যবহারের ফলেই গাজায় এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...