বিজ্ঞাপন

গাজায় মানুষ পুড়ে বাষ্প, ইসরায়েলের নিষিদ্ধ থার্মোবারিক বোমার আতঙ্ক

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৯ পিএম
গাজায় মানুষ পুড়ে বাষ্প, ইসরায়েলের নিষিদ্ধ থার্মোবারিক বোমার আতঙ্ক

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর বোমা হামলায় বহু মানুষের দেহ চোখের পলকে বাষ্পে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এমনকি দাফনের মতো লাশের একটি টুকরোও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা যুদ্ধাপরাধের এক ভয়াবহ দৃশ্য। গাজার সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান এই আগ্রাসনে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি এভাবে ‘বাষ্পীভূত’ হয়েছেন, যাদের কোনো হদিস মেলেনি।

গত ১০ আগস্ট ভোরে গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে ছেলে সাদকে খুঁজতে যান ইয়াসমিন মাহানি। কিন্তু চোখের সামনে স্বামীর চিৎকার আর মসজিদের মেঝে জমাট বাঁধা রক্ত ও মাংস ছাড়া তার ছেলের আর কোনো অস্তিত্ব পাননি তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়াবহতার জন্য দায়ী ইসরায়েলের ব্যবহৃত থার্মোবারিক বা ‘ভ্যাকুয়াম বোমা’। রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ জানিয়েছেন, অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের গুঁড়া মিশ্রিত এই বিস্ফোরক আঘাত হানার সাথে সাথে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম, যা মানুষের শরীরকে মুহূর্তেই ছাইয়ে পরিণত করে।

বিজ্ঞাপন

গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, তারা আক্রান্ত বাড়িতে বসবাসকারীদের সংখ্যার সাথে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা মিলিয়ে এই হিসাব করেছেন। বসবাসকারীদের তালিকা অনুযায়ী লাশ না পাওয়া গেলে, শুধু রক্তের দাগ বা মাথার চামড়া পাওয়া গেলে তাদের ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এখন পর্যন্ত এই আগ্রাসনে ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ এই অস্ত্রের বিস্ফোরণে তৈরি হওয়া জ্বালানির মেঘ মানুষকে শুধু হত্যা করে না, বরং প্রাণহীন দেহটিকেও মুছে ফেলার মতো ভয়াবহ ক্ষমতা রাখে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...