গাজায় ইসরায়েলের মারণাস্ত্র: বাষ্পে মিলছে হাজার হাজার মানুষ
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন যুদ্ধাপরাধের সীমা ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। সেখানে নিষিদ্ধ তাপীয় ও থার্মোবারিক বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপ উৎপন্ন করতে সক্ষম। এই ভয়াবহ তাপে মানুষের দেহ পুড়ে বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি এভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন, যাদের কোনো চিহ্নও পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ১০ আগস্ট ভোরে গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে হামলার ঘটনা এর এক ভয়াবহ উদাহরণ। ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে ছেলে সাদকে খুঁজতে আসা মা ইয়াসমিন মাহানি শুধু রক্ত আর মাংসের স্তূপ দেখেছেন, কিন্তু সন্তানের কোনো সন্ধান পাননি। দিনের পর দিন হাসপাতাল ও মর্গে খোঁজার পরও তিনি ছেলের দাফনের মতো কোনো লাশের অংশ খুঁজে পাননি। এমন হাজার হাজার পরিবার তাদের স্বজনদের সন্ধানে হতাশ হয়ে ঘুরছেন। এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হতাশাজনক পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলের ব্যবহৃত ভ্যাকুয়াম বা থার্মোবারিক অস্ত্র দায়ী। রুশ সামরিক বিশ্লেষক ভাসিলি ফাতিগারভ বলেন, এই অস্ত্রগুলো সাধারণ বিস্ফোরণের চেয়ে ভিন্ন। এতে অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া ব্যবহার করে তাপমাত্রা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি পর্যন্ত নেওয়া হয়, যা মানুষকে ছাইয়ে পরিণত করতে সক্ষম। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা বিস্ফোরিত বাড়িতে থাকা বাসিন্দাদের তালিকার সাথে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা তুলনা করে এই হিসাব করছে, যা মানবতার জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

