বিজ্ঞাপন

গাজায় নিষিদ্ধ থার্মোবারিক বোমা, চোখের পলকে লুপ্ত হাজার মানুষ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৯ পিএম
গাজায় নিষিদ্ধ থার্মোবারিক বোমা, চোখের পলকে লুপ্ত হাজার মানুষ

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক ভয়াবহ চিত্র এখন সামনে এসেছে। সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ তাপীয় বা থার্মোবারিক বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। এই ভয়াবহ তাপে মানুষের দেহ মুহূর্তেই বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনি এমনভাবে নিশ্চিহ্ন হয়েছেন, যাদের কোনো চিহ্ন আর পাওয়া যায়নি।

গত ১০ আগস্ট আল-তাবিন স্কুলে বোমা হামলার পর ছেলে সাদকে খুঁজতে আসা মা ইয়াসমিন মাহানি হতাশ হয়ে বলেছেন, তিনি হাজার হাজার মানুষের রক্ত ও মাংসের ওপর দিয়ে হেঁটেছেন, কিন্তু ছেলের কোনো সন্ধান পাননি। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, তারা আক্রান্ত বাড়ির বাসিন্দাদের সংখ্যার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের তুলনা করেন। যদি কেবল রক্তের দাগ বা মাথার চামড়ার মতো জৈবিক অংশ পাওয়া যায় কিন্তু মরদেহ মেলে না, তবে তাদের ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমায় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়, যা বিস্ফোরণের সময় তাপমাত্রা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি পর্যন্ত নিয়ে যায়। রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি ফাতিগারভ বলেছেন, এই অস্ত্র শুধু হত্যাই করে না, পদার্থকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেয়। তদন্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এমকে সিরিজের বোমা এবং টিএনটি ও অ্যালুমিনিয়াম মিশ্রণে তৈরি ‘ট্রাইটোনাল’ এর ব্যবহার এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...