মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের শুল্কসুবিধায় ভারতীয় পোশাক শিল্পে আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের টেক্সটাইল এবং পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা। মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর থাকা শুল্কের তুলনায় বাংলাদেশের নতুন শুল্কমুক্ত সুবিধা তাদের ব্যবসায়িক সুবিধার ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল আমদানির বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক শুল্কছাড়া রপ্তানির সুযোগ পাবে, যা নতুন করে প্রতিযোগিতার বাজার তৈরি করবে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ১৪৭ কোটি ডলারের তুলা সুতা রপ্তানি করেছে, যা তাদের সুতার সবচেয়ে বড় বাজার। তবে নতুন এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি তুলা কিনে নিজেদের মিলে সুতা তৈরির পথ বেছে নিতে পারে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির মহাসচিব চন্দ্রিমা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় তুলাজাত সুতার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিরুপ্পুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে. এম. সুব্রামানিয়ান মার্কিন কাঁচামালের উৎস যাচাই বা ট্রেসেবিলিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশ অত্যন্ত শক্তিশালী, ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের বাজার হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের টেক্সটাইলস বিষয়ক চেয়ারম্যান সঞ্জয় কে. জৈন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়লে ভারত টি-শার্ট ও নারীদের টপসের মতো তুলাভিত্তিক বাজার হারাতে পারে।
তবে সবাই একমত নন। কোয়েম্বাতুরের একজন রপ্তানিকারক মনে করেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাংলাদেশে মার্কিন তুলা থেকে সুতা উৎপাদন করা খরচসাপেক্ষ হতে পারে, যার ফলে এর প্রভাব ততটা মারাত্মক নাও হতে পারে। সব মিলিয়ে, নতুন এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতীয় টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের মনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

