বিপ্লবের পর ভোট: তরুণ আন্দোলন ও পুরনো নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব
জেন জি আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটালেও, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে পুরনো শক্তিরাই। গত বছরের আগস্টে কোটি কোটি তরুণের হাত ধরে ঘটা সেই গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি যুবকদের বাদ দিয়ে মূল দুটি দলের মনোনয়ন পেয়েছেন ৬০ ও ৬৭ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিকরা।
গত বছরের আগস্টে হেলিকপ্টারে করে পালানোর আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপি, দুর্নীতি এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু হাসিনা-পরবর্তী রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত দেখার স্বপ্ন দেখা তরুণদের জন্য বাস্তবতা কিছুটা হতাশাজনক। নির্বাচনে মুখ্য ভূমিকায় থাকা দুই প্রার্থী হলেন বিএনপির তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান। তারেক রহমান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি, অন্যদিকে শফিকুর রহমানের দল এবার একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি।
আন্দোলনকারীরা মনে করেন, তাদের স্বপ্ন ও বর্তমান রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মির্জা শাকিল বলেন, ‘এই বিপ্লব দেখিয়েছে—জেন জি চাইলে কত কিছু করতে পারে।’ অন্যদিকে সাদমান মুজতবা রাফিদ বলেন, ‘আমরা সবার জন্য সমান সুযোগ ও নীতিগত পরিবর্তন চেয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবতা স্বপ্নের অনেক দূরে।’ এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

