ইরানের হুঁশিয়ারি: যুদ্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরমে ওঠার প্রেক্ষাপটে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে এক কঠোর বার্তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের টার্গেটে পরিণত হবে। তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা কঠিন হলেও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সব সামরিক স্থাপনা ইরানের আওতার মধ্যে রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দুই হাজার মিসাইলের ভাণ্ডার ইরানের প্রধান শক্তি। খুররমশাহর এবং সেজজিলের মতো আধুনিক মিসাইল দিয়ে তারা দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে কাতারের আল উদেইদ, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্কের ইনজিলিক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটি—সবই এখন ঝুঁকির মুখে। পেন্টাগন এই হুঁশিয়ারি গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে এবং জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবে অতিরিক্ত থ্যাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মাঝেও ওমানে পরোক্ষ আলোচনা চললেও ইরান তাদের অবস্থানে অনড়। আরাঘচি জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে হামলার বদলে ওইসব দেশে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকেই কেবল লক্ষ্য করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন নৌবহর পাঠানোর যে যুক্তি দেখিয়েছে, তেহরান তা উস্কানি হিসেবেই দেখছে।

