এপস্টেইন যোগসাজশে অ্যান্ড্রু: রাজা চার্লসের গভীর উদ্বেগ, তদন্তে সহযোগিতার ঘোষণা
জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে নিজের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বললেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বাকিংহাম প্যালেস সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযোগগুলো নিয়ে রাজা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি তদন্তের জন্য এগিয়ে আসে, তবে রাজপরিবার তাদের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে। প্যালেসের পক্ষ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি রাজা এবং রানীর সহানুভূতি রয়েছে।
বর্তমানে টেমস ভ্যালি পুলিশ ‘রিপাবলিক’ নামক একটি রাজতন্ত্রবিরোধী সংগঠনের দায়ের করা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। ওই অভিযোগে সরকারি পদের অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে ডিউক অব ইয়র্কের বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত প্রমাণে দেখা গেছে, সরকারি গোপনীয়তার নিয়ম উপেক্ষা করে অ্যান্ড্রু তার বিশেষ উপদেষ্টার পাঠানো ইমেইল পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তা এপস্টেইনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন। এছাড়াও নতুন নথিপত্রে অ্যান্ড্রুর বিতর্কিত আলোকচিত্র এবং তার প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসনের সঙ্গে এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেনের ইমেইল যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। ওয়েলসের প্রিন্স এবং প্রিন্সেস অর্থাৎ উইলিয়াম ও ক্যাথরিনও এই নতুন তথ্যে গভীরভাবে বিচলিত বলে জানিয়েছেন তাদের মুখপাত্র।
এরই মধ্যে ল্যাঙ্কাশায়ারে এক অনুষ্ঠানে রাজা চার্লসের সামনে এক বিক্ষোভকারী অ্যান্ড্রু নিয়ে প্রশ্ন তুললে হট্টগোল সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তবে উপস্থিত জনতা তাকে থামিয়ে দেয়। অক্টোবর ২০২৫ সালে রাজকীয় পদবি খোয়ানোর পর থেকেই অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত সপ্তাহে তাকে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ থেকে সরিয়ে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে পাঠানো হয়। অবশ্য অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন যে, এপস্টেইনের নথিপত্রে তার নাম থাকা মানেই তিনি দোষী তা নয়।

