মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তিশালী নৌবহর প্রেরণের জবাবে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তিনি স্পষ্ট করে দাবি করেছেন, আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা করা কঠিন হলেও এই অঞ্চলের সব ঘাঁটিই তেহরানের আওতার মধ্যে রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের হাতে থাকা প্রায় দুই হাজার মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার মিসাইল এখন তাদের প্রধান অস্ত্র। খুররমশাহর এবং সেজজিলের মতো আধুনিক মিসাইলগুলো প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে কাতারের আল উদেইদ, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দপ্তর, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্কের ইনজিলিক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটি—সবই এখন ইরানের হুমকির মুখে। গত বছর ইসরায়েলে ৫০০ মিসাইল ছোড়ার মাধ্যমে তারা এই সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে, যা পেন্টাগনকেও সতর্ক করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সম্ভাব্য ইরানি আক্রমণ ঠেকাতে জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবে অতিরিক্ত থ্যাড এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ওমানে চলমান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেও আরাঘচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। তিনি জানান, যুদ্ধের ভয় না থাকলেও ইরান আগ্রাসনের মুখে দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তারা কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হামলা না করে শুধুমাত্র সেখানকার মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানবে।

