বাস্তুচ্যুত আসামবাসীর প্রশ্ন—ঘরহারা হলে কি নাগরিকত্ব থাকে না?

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯:২৯ এএম
বাস্তুচ্যুত আসামবাসীর প্রশ্ন—ঘরহারা হলে কি নাগরিকত্ব থাকে না?

আসামের নাগাঁও জেলার একটি অস্থায়ী শিবিরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফাজিলা খাতুন। সর্বস্বান্ত হয়ে প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া এই পঞ্চাশ বছরের নারীর মনে এখন একটাই শঙ্কা—ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে গেলে কি তার নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যাবে? চরম মানসিক আতঙ্কে তিনি বলেন, মুসলিম হিসেবে জন্মানোটা কি তাদের কাছে একটা অপরাধ? ঘরবাড়ি হারানোর পর এখন নাগরিকত্ব হারানোর দুঃস্বপ্নে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

গত ২৯ ও ৩০ নভেম্বর আসামের লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রাজ্য সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালায়। জঙ্গলের জমি অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগে প্রায় ছয় হাজার বিঘা ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ফাজিলাদের মতো ৩৩১টি পরিবারকে। মাস দেড়েক আগে ঘর হারানো এই মানুষগুলো এখন জেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সমস্যা তখনই তীব্র হয় যখন বাসস্থান পরিবর্তনের কারণে নির্বাচন কমিশন তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

বিশেষ সংশোধন কর্মসূচির অধীনে শুনানির নোটিশ পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই পরিবারগুলো। ফাজিলা খাতুন জানান, সন্তানদের নিয়ে বারবার সরকারি অফিসে ছুটে গেছেন, সব ধরনের নথিপত্র দেখিয়েছেন এবং তিন-চার দফা শুনানিতেও অংশ নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের মতো সাধারণ সংশোধন নয়, আসামে এই প্রক্রিয়া আলাদা এবং তা তাদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...