বিজ্ঞাপন

আসামে উচ্ছেদের ত্রাস, নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে কাঁদছে পরিবারগুলো

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯:২২ এএম
আসামে উচ্ছেদের ত্রাস, নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে কাঁদছে পরিবারগুলো

আসামে বনভূমি দখলের অভিযোগে সরকারি উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েও এখন নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। নগাঁও জেলার একটি বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া ফাজিলা খাতুনের মতো প্রায় ৩৩১টি পরিবার এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে দিন কাটাচ্ছেন। বছর পঞ্চাশের এই নারী জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে তাদের নাগরিকত্বই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যার কথা ভেবে তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন না এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর থেকে টানা দুই দিন লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অভিযান চালায় রাজ্য সরকার। জঙ্গলের জমি জবরদখল করে গড়ে ওঠা বসতিগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রায় ছয় হাজার বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়। মাস খানেক আগে এই হিংস্র উচ্ছেদের শিকার হয়ে তারা এখন নগাঁওয়ের বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু বাসস্থান হারানোর পর এখন তাদের সামনে নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ। বসতি হারানোয় তাদের ঠিকানা পরিবর্তন হওয়ায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় তাদের শুনানির ডাক দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তর প্রদেশের নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার চেয়ে আসামের এই প্রক্রিয়া ভিন্ন এবং কঠোর। নোটিশ পেয়ে ছেলেদের নিয়ে বারবার কর্মকর্তাদের কাছে নথিপত্র দেখিয়েছেন ফাজিলা খাতুন। তিন-চারবার শুনানিতে হাজির হওয়ার পরও তিনি এখন আতঙ্কিত। তার প্রশ্ন, ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর যদি নাগরিকত্বও না থাকে তবে তারা কোথায় যাবেন? মুসলিম হওয়ার দোহাই দিয়ে কি তাদের এই অস্তিত্ব হারানোর কষ্ট দেওয়া হচ্ছে? এই অনিশ্চয়ত্বের মেঘ এখন আসামের উচ্ছেদ হওয়া হাজার হাজার মানুষের জীবনে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...