বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানি মন্ত্রী

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৮:৫৩ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানি মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে তেহরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আমেরিকা যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের টার্গেটে পরিণত হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা কঠিন হলেও এই অঞ্চলে থাকা তাদের সব সামরিক স্থাপনা তেহরানের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তিনি আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ করতে ভয় পায় না এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণ না করে সেখানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের দিকে একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার মিসাইল রয়েছে, যা তাদের প্রধান প্রতিরক্ষা বলে বিবেচিত হচ্ছে। খুররমশাহর এবং সেজজিলের মতো আধুনিক মিসাইল দিয়ে তারা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে কাতারের আল উদেইদ, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া এবং তুরস্কের ইনজিলিক ঘাঁটি—সবই এখন ইরানের মিসাইল হুমকির সরাসরি আওতায়। পেন্টাগন এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে থ্যাড ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবে অতিরিক্ত সৈন্য ও সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।

বিজ্ঞাপন

এই সামরিক উত্তেজনার মাঝেও ওমানে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও ইরান কোনো আপসের পথে হাঁটছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি—কোনোটিই তারা বন্ধ করবে না। এগুলোকে তারা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করে। সব মিলিয়ে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির মুখোমুখি অবস্থান যেকোনো মুহূর্তে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...