মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ: মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে তেহরান সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে অঞ্চলটিতে অবস্থিত প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের টার্গেটে পরিণত হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আক্রমণ না করেও সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম এবং তাদের সেনাবাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের অনুমান, ইরানের হাতে প্রায় দুই হাজার মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যা তাদের প্রধান প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে কাজ করছে। খুররমশাহর এবং সেজজিলের মতো আধুনিক প্রযুক্তির এই মিসাইলগুলো প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম, ফলে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে শুরু করে বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া এবং তুরস্কের ইনজিলিক ঘাঁটি পর্যন্ত সবই এখন ইরানের আওতায় রয়েছে। গত বছর ইসরায়েলে প্রায় ৫০০ মিসাইল হামলা চালিয়ে তারা তাদের এই সক্ষমতার জানান দিয়েছিল, যা পেন্টাগনকেও সতর্ক করেছে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পেন্টাগন সম্ভাব্য ইরানি প্রতিশোধ মোকাবিলায় জর্ডান, কুয়েত ও সৌদি আরবে থ্যাড এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌবহর পাঠানোকে শান্তি রক্ষার অংশ বলে দাবি করলেও এই পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, ওমানে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও আরাঘচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইরান কোনো আপস করবে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

