বিজ্ঞাপন

ভূ-রাজনীতির নতুন খেলা: চীন-ভারতের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের ভোট

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৪ পিএম
ভূ-রাজনীতির নতুন খেলা: চীন-ভারতের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের ভোট

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই প্রথম নির্বাচন, যেখানে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপগুলো ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে ভারতের সাথে বিদ্যমান বৈরিতা এবং চীনের সাথে সম্পর্ক জোরদারের প্রবণতা এই ভোটের ফলাফলকে আন্তর্জাতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমান ঢাকা সরকার সুস্পষ্টভাবে বেইজিংয়ের প্রতি ঝুঁকছে। ড. ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর চীনে হওয়া এবং গত জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর এর প্রমাণ। এই চুক্তির আওতায় ভারত সীমান্তের কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কারলানজিক বলেছেন, বাংলাদেশ এখন চীনের বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং ঢাকা বেইজিংয়ের পক্ষেই ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশ্বস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে দিল্লি যে ‘অবিরাম বৈরিতা’র কথা বলেছে, তার জেরে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত কিছু কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়েছে, যেমন—খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং তারেক রহমানের প্রতি নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা প্রেরণ। তবে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক কারণে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার মতো ঘটনাও দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল নির্বিশেষে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...