বিজ্ঞাপন

চীন-ভারত সম্পর্কে নতুন মোড় আনবে বাংলাদেশের নির্বাচন

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫ পিএম
চীন-ভারত সম্পর্কে নতুন মোড় আনবে বাংলাদেশের নির্বাচন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাইরে দুই প্রতিবেশী মহাশক্তি চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম ভোট, যেখানে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটির ভোটের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য রচনায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

শেখ হাসিনার আমলে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও ঢাকার প্রধান মিত্র ছিল ভারত, কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতার রাজনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। ড. ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর চীনে হওয়া এবং গত জানুয়ারিতে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব সংবলিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর বেইজিংয়ের প্রতি ঢাকার নতুন ঝোঁকের ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কারলানজিক মনে করেন, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে চীনের কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশ এখন মূখ্য ভূমিকায় এবং বর্তমান সরকার সুস্পষ্টভাবেই চীনপন্থি নীতির দিকে ঝুঁকছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ‘অবিরাম বৈরিতা’র অভিযোগ এনে ভারত যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি বাংলাদেশও দিল্লির এই অবস্থানে বিরক্ত। পুলিশের তথ্যমতে গত বছর সহিংসতায় প্রায় ৭০ জন সংখ্যালঘু নিহত হলেও ঢাকার অভিযোগ, নয়াদিল্লি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বড় করে দেখাচ্ছে। তবে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি এবং নরেন্দ্র মোদির তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানানো—এই পদক্ষেপগুলো দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আভাস দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ভোটের ফলাফল নির্বিশেষে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন মনে করেন, পরবর্তী সরকার গঠন যাই হোক না কেন, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা বাড়বেই। ফলে, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক জোট গঠনের ক্ষেত্রেও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...