ভোটের আগেই দিল্লি-বেইজিংয়ের টানটান: চীনের দিকে ঝুঁকছে ঢাকা
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তন আসা এই নির্বাচন ঘিরে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জোর কদমে চলছে দৌড়ঝাঁপ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় চীন ও ভারতের মতো দুই প্রতিবেশী মহাশক্তির জন্য এই নির্বাচনের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত বছরের আগস্টে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অবিরাম বৈরিতা’ মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও প্রভাবিত করেছে। বিপরীতপক্ষে, ড. ইউনূসের সরকার গঠনের পর থেকেই চীন ও পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে যান। গত জানুয়ারিতে চীনের সাথে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে ভারত সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় ড্রোন কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কারলানজিক মনে করেন, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে চীনের কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশ এখন মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত দিলেও তা এখনও অনিশ্চিত।

