ইসরাইল বা পশ্চিমাপন্থী নয়, নিজস্ব কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন খেলায় সৌদি
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব এখন নতুন কূটনৈতিক পথে হাঁটছে। দেশটির শক্তিশালী নেতৃত্ব এখন আর ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার তাড়াহুড়ো করছে না, এমনকি ইরান-বিরোধী ঐতিহ্যবাহী অবস্থান থেকেও তারা সরে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ালো করা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করায় কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার দেশকে নতুন এক আঞ্চলিক জোটের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ১৬ দিন আগেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে সৌদির সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির আশা ব্যক্ত করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময়ও রিয়াদকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যোগ দিতে বারবার চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যুবরাজ সালমান দেশের স্বার্থে ‘হেজিং’ বা বহুমুখী নীতি অবলম্বন করছেন। আমিরাতের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি—সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বার্তা দিচ্ছে যে সৌদির হাতে অন্য বিকল্পও আছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, সৌদি আরব কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে বিশ্বাস করে ইসলামপন্থি জোটে যোগ দিচ্ছে না, বরং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করছে। ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে আমিরাতের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব একান্তই ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে। অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার স্বার্থে তারা তুরস্ক ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছে। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না; রিয়াদ সব পক্ষের সঙ্গেই দরজা খোলা রাখার নীতিতেই এগোচ্ছে।

