মার্কিন হুমকির মুখে খামেনি, ভাঙল ৩৭ বছরের ঐতিহ্য
পারস্য উপসাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার দীর্ঘ ৩৭ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা ভঙ্গ করেছেন। ১৯৮৯ সালে ক্ষমতার শীর্ষে আসার পর থেকে প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমান বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠক করে আসছেন তিনি, যা করোনা মহামারির সময়ও বাদ যায়নি। তবে এবার ওই অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতিতে বিমান বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি।
এই হঠাৎ অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা মার্কিন আগ্রাসনের সম্ভাব্য ঝুঁকিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পাহলভী রাজবংশের পতনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন, যার স্মৃতিচারণ করেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু চলতি বছর জানুয়ারির শেষের দিকে আরব সাগরে মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ মোতায়েন এবং জর্ডানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন পাঠানোর পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
খামেনির এই রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হয়তো তিনি সরাসরি জনসমক্ষে আসা এড়িয়ে চলছেন অথবা কোনো বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির মধ্যেও ইরান বারবার সতর্ক করে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইন্ধন জোগাবে।

