যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মাঝে ৩৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন খামেনি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মাঝে ৩৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন খামেনি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি এবং পারস্য উপসাগরে চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার দীর্ঘ ৩৭ বছরের এক অনন্য ঐতিহ্য ভঙ্গ করেছেন। ১৯৮৯ সালে ক্ষমতার শীর্ষে আসার পর থেকে প্রতি বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিমান বাহিনীর কমান্ডারদের সাথে বার্ষিক সাক্ষাতে মিলিত হলেও এবার সেই প্রথায় আর দেখা যায়নি তাকে। খামেনির পরিবর্তে এবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এই বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এই অন্যরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসলামিক বিপ্লবের ইতিহাসে দিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ১৯৭৯ সালের এই দিনে একদল বিমান বাহিনী কর্মকর্তা রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে পাহলভী রাজবংশের পতনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে এমনকি করোনা মহামারির সময়ও উপস্থিত ছিলেন খামেনি। তবে এবার উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং জর্ডানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যা ইরানের জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির কারণে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতার পরিবেশ বিরাজ করছে। খামেনির এই হঠাৎ জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যাওয়া ইরানের সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান ঠেকাতে বা নতুন কোনো কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হতে পারে। ওমানে পরোক্ষ আলোচনা চললেও পরিস্থিতি এখন এমন যে যেকোনো ছোট ঘটনাই সমগ্র অঞ্চলে বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...