এআই তৈরি অপতথ্যের বন্যা, ভারত থেকে আসছে ৯০ শতাংশ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে এক বিশাল অপতথ্যের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সুসংগঠিত অপপ্রচারের মূল উৎস প্রতিবেশী দেশ ভারত, যেখান থেকে তৈরি ও ছড়ানো হচ্ছে মোট অপতথ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ। নির্বাচনে জনমত প্রভাবিত করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে অসংখ্য ভুয়া ছবি ও ভিডিও।
এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অপপ্রচারের মূল টার্গেট হলো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। ‘হিন্দু জেনোসাইড’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে গত বছরের আগস্ট থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রায় সাত লাখেরও বেশি পোস্ট করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ অর্গানাইজড হেট’-এর প্রধান রকিব নায়েক জানিয়েছেন, এর অধিকাংশই ভারত থেকে উদ্ভূত এবং বাকি অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার হিন্দুত্ববাদী নেটওয়ার্ক থেকে ছড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও এআই তৈরি ভুয়া ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যা এমনকি খেলাধুলার মতো সংস্কৃতিতেও প্রভাব ফেলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তবে এই অপপ্রচারে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন মেটার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিশেষ মনিটরিং ইউনিট গঠন করলেও, কমিশনের মুখপাত্র রুহুল আমিন মল্লিক স্বীকার করেছেন যে অনলাইনের এই বিশাল স্রোত সামলানো দুঃসাধ্য। নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন তুলি মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বেড়ে গেলেও তথ্য যাচাইয়ের সাধারণ সচেতনতার অভাবে ভোটাররা এই এআই-নির্ভর ভুয়া সংবাদের ফাঁদে পা দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

