গাজার সীমান্ত বন্ধ: ফিলিস্তিনিদের জীবন-মরণ এখন ইসরাইলের হাতে
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সীমান্ত অবরোধ এখন মারাত্মক মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে, যা কেবল নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা নয় বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর সম্মিলিত শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলের চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইসরাইলের হাতে চলে যায়। ফলে সেখানকার বাসিন্দাদের জীবনধারণ, খাদ্য সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা—এসব মৌলিক অধিকারের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর।
পরিস্থিতি আরও ঘোরালো আকার ধারণ করে ২০২৪ সালের মে মাসে, যখন রাফাহ সীমান্তের ফিলিস্তিনি পার্শ্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ইসরাইল। বহির্বিশ্বের সাথে গাজার একমাত্র সংযোগ এই সীমান্তটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলো আটকা পড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাবে গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে এবং জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, সামরিক বাধা ও সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে।
মুমূর্ষু রোগী ও আহতদের জন্য গাজা ত্যাগ করা এখন অত্যন্ত দুরূহ ও ধীরগতির প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন রোগী জরুরি চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকলেও তুলনামূলকভাবে অল্প কয়েকজনকেই সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, গত এক বছরে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় থেকে অন্তত ১ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনি গাজার ভেতরেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০০৭ সাল থেকে চলা এই অবরোধ গাজার শিক্ষা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন করছে, যা ফিলিস্তিনিদের এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

