পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহে এপস্টেইন, রুশ গোয়েন্দাদের যোগসাজশের অভিযোগ
মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন করে প্রকাশিত নথিপত্রে জেফ্রি এপস্টেইনের রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের জটিল তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালে এপস্টেইন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তৎপরতা চালিয়েছিলেন। তিনি তৎকালীন কাউন্সিল অব ইউরোপের সেক্রেটারি জেনারেল থর্বজর্ন জ্যাগল্যান্ডকে ইমেইল করে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন লাভরভকে তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এমনকি তিনি দাবি করেছিলেন, জাতিসংঘে রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ভিটালি চুরকিনের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তাদের আলোচনা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রুশ কর্মকর্তাদের বোঝাতে সাহায্য করেছিল।
২০১৩ সালের একটি নথিতে এপস্টেইন দাবি করেন, তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের উপদেষ্টা এবং রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচিতে পুতিনকে সহায়তা করতে পারেন। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাককে তিনি জানিয়েছিলেন যে পুতিন তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু গোপনীয়তা নিয়ে সংশয়ের কারণে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। এপস্টেইনের রুশ ঘনিষ্ঠদের তালিকায় রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির একাডেমির সাবেক সের্গেই বেলাকভ এবং পুতিনপন্থি যুব নেত্রী মাশা দ্রোকোভা বুচারের নাম পাওয়া যায়। ২০০২ সালে তার সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে ভ্রমণ এবং ২০১৯ সালে গ্রেফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে রাশিয়ার ভিসার আবেদন তার রুশ সংযোগের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই তথ্য প্রকাশের পর পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারির নেপথ্যে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যা বিশ্বজুড়ে নেতাদের জন্য হুমকি হতে পারে। যদিও পুতিন বা লাভরভের সঙ্গে এপস্টেইনের সরাসরি বৈঠকের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি, তবুও ক্রেমলিন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অগ্রাহ্য করেছে।

