দখলদারিত্ব থাকা পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত, বিদেশি শাসন প্রত্যাখ্যান হামাসের
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মিশাল জানিয়েছেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত তাদের সশস্ত্র সংগ্রাম চলতে থাকবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, গাজায় অস্ত্র সমর্পণ কিংবা বিদেশি শাসনের অধীনে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই হামাস মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে যে নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানানো হচ্ছে, তা তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
সংগঠনটির প্রবাস শাখার প্রধান খালেদ মিশাল বলেছেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরাধ নয় বরং এটি একটি অধিকার। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডের বিষয়েও কথা বলেছেন। গাজার পুনর্গঠন এবং ২২ লাখ বাসিন্দার জন্য ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই বোর্ডকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বা ম্যান্ডেট ব্যবস্থা তারা কখনোই মেনে নেবে না। তার ভাষ্যমতে, ফিলিস্তিনিরাই ফিলিস্তিন শাসন করবে।
এদিকে, গাজায় চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, যার পুনর্গঠন ব্যয় প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে জাতিসংঘ অনুমান করেছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং ত্রাণপণ্য প্রবেশে সীমান্ত বন্ধ রেখেছে।

