আমেরিকার সামরিক হুমকি উপেক্ষা করে পারমাণবিক কর্মসূচিতে অটল তেহরান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ উপেক্ষা করেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ওমানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র দুই দিন পর তেহরানে এক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পারমাণবিক অধিকার থেকে ইরান কখনো পিছু হটবে না এবং কোনো বিদেশি শক্তি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে বাধা দিতে পারবে না।
আরাগচি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েন বা সামরিক শক্তি প্রদর্শন তেহরানের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতোই নতুন চুক্তির জন্য সামরিক হুমকি দিক না কেন, ইরান তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। এরই মধ্যে ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানকে একমাত্র দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যারা বোমা না থাকা সত্ত্বেও এত উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনাই কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে সমর্থন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে। ওয়াশিংটনের এই বহুমুখী শর্ত এবং তেহরানের অনঢ় অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হওয়ারই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

