নাইজেরিয়ার গ্রামগুলোতে বর্বর হামলায় প্রাণহানি ২০০ ছাড়িয়ে
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় কোয়ারা ও উত্তরাঞ্চলীয় কাতসিনা রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের বর্বরোচিত হামলায় প্রায় ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
কোয়ারা রাজ্যের ওরো এবং নুকু গ্রামে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদু বাবা আহমেদ জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের ঘিরে ফেলে হাত পেছনে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করে। এসময় তারা বসতবাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করার পাশাপাশি গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, উগ্রবাদী ওই গোষ্ঠীটি গ্রামবাসীদের ‘শরিয়া আইন’ মেনে চলতে এবং সরকারের প্রতি অনুগত্য পরিত্যাগ করতে বললে তারা তা প্রত্যাখ্যান করলে এই হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, কাতসিনা রাজ্যেও বন্দুকধারীরা ঘরে ঘরে ঢুকে অন্তত ২১ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। এর ফলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সশস্ত্র চক্রের মধ্যে গত ছয় মাস ধরে চলা একটি মৌখিক শান্তি চুক্তি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা প্রায়ই চাঁদা বা খাবার দিয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে থাকেন, তবে এই ব্যবস্থাটিও এখন হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও নাইজেরিয়ার এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর নাইজেরিয়াকে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনী নাইজেরিয়ায় একটি বিমান হামলা পরিচালনা করে। নাইজেরিয়ান সরকার ওয়াশিংটনের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে বলে দাবি করলেও, সাম্প্রতিক এই গণহত্যাকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থা স্পষ্ট করে তুলেছে।

