গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ: নির্বাচন, অর্জন ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
স্বৈরশাসনের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বাদ এনে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একুশে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণভাবে এই নির্বাচনের পথ করে দিয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে প্রধান লড়াইটি হতে দেখা যাচ্ছে দুই প্রবীণ দলের মধ্যে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়ের মুখ দেখছে বলে ধারণা করা হলেও, ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে বিপ্লবের পর নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান না হওয়ায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে অতীতে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতি এবং জামায়াতের মতাদর্শগত কঠোরতা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় রয়েছে।
যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় হাইলাইট হবে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন। এ বছরই বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটাতে যাচ্ছে, ফলে বাণিজ্য সুবিধা ও ঋণের সুদ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে বাঁচালেও, এখন বড় ধরনের সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংস্কারের ধারা অব্যাহত না রাখতে পারলে দেশ আবারও পুরনো অরাজকতায় ফিরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

